রূপপুরের মালামাল নিয়ে রুশ জাহাজ মোংলা বন্দরে!

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২২, ০৭:০৭ বিকাল
আপডেট: সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২২, ০৭:০৭ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: 
 
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালামাল নিয়ে সরাসরি মোংলা বন্দর জেটিতে এসে নোঙর করেছে এমভি ইউনিউ ইসডম নামের রুশ জাহাজ।

সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পণ্যবাহী এ জাহাজটি বন্দরের ৭ নম্বর জেটিতে ভিড়ে। রাত ১০টার পর বিদেশি এ জাহাজটি থেকে রূপপুরের মেশিনারিজ পণ্য খালাসের কাজ শুরু হয়। খালাসের সঙ্গে সঙ্গেই তা সড়কপথে যাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপসচিব মুন্সী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিদেশি জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ম্যাক শিপিংয়ের খুলনার ম্যানেজার আবুল হাশেম শামীম জানান, রাশিয়ার একটি বন্দর থেকে সরাসরি বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল্যবান বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে বিদেশি জাহাজ এমভি ইউনিউ ইসডম সোমবার সন্ধ্যায় মোংলা বন্দর জেটিতে আসে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তৃতীয় চালান। এ চালানে রয়েছে ২৮০ প্যাকেজ ১ হাজার ৪২১ টনের মেশিনারি পণ্য।

সোমবার রাতের পালা থেকে শুরু হওয়া এ পণ্য খালাসের কাজে সময় লাগবে মাত্র ৪ দিন বলে জানিয়েছেন ম্যাক শিপিংয়ের ম্যানেজার আবুল হাশেম শামীম। তিনি বলেন, এর আগে গত ১ আগস্ট পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর প্রথম বন্দরে আসে এমভি কামিল্লা ও ৫ আগস্ট দ্বিতীয় জাহাজ এমভি ড্রাগনবল রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালামাল নিয়ে এ বন্দরে এসে পণ্য খালাস করে মোংলা বন্দর ত্যাগ করেন জাহাজ দুটি। আর এবার তৃতীয় জাহাজ।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মুসা বলেন, মোংলা বন্দরের বিদ্যমান অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধার কারণেই দেশের বেশির ভাগ মেগা প্রকল্পের মালামাল এ বন্দর দিয়েই আমদানি ও পরিবহন হচ্ছে। এতে বন্দর ব্যবহারকারীদের যেমনি অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি নিরাপদে মালামাল প্রকল্প এলাকায় নিতে পারছেন। পদ্মা সেতুর কারণে ঢাকার সঙ্গে দূরত্ব কমে যাওয়ার ফলে সব ব্যবসায়ীর মোংলা বন্দরের প্রতি আগ্রহ ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

তিনি আরও বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালামাল নিয়ে আসা একটি রুশ জাহাজ ভিড়েছে এ বন্দরে। এ ছাড়া রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে ও বঙ্গবন্ধু রেলসেতুসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের সর্ববৃহৎ মেগা প্রকল্পের সকল মালামালই এ বন্দরে আসছে এবং আমদানিকারকরা পণ্যগুলো দ্রুত খালাস করছে এ বন্দর দিয়ে। আর এটি সম্ভব হচ্ছে সম্প্রতি আউটারবার ড্রেজিং সম্পন্নের কারণে। আর চলমান ইনারবার ড্রেজিং প্রকল্প সম্পন্ন হলে এর চেয়েও বড় বড় জাহাজ পণ্যবোঝাই করে সরাসরি বিদেশ থেকে এসে এ বন্দরে ভিড়তে পারবে। বন্দরের বিদ্যমান এ সুবিধা ও পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে এ বন্দরের ওপর চাপ বাড়তে থাকায়, বাড়ানো হচ্ছে বন্দরের সক্ষমতাও। এ ছাড়া মোংলা বন্দর উন্নয়নে যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে বিশ্বদরবারে মোংলা বন্দর একটি লাভজনক ও বাণিজ্যিক বন্দরে রূপান্তরিত বলে জানান বন্দরের চেয়ারম্যান।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, নিউজ টিপিবি এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়