নড়াইলে জামায়েত নেতা পেটালেন লালন সাধককে

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২২, ০৭:২৩ বিকাল
আপডেট: সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২২, ০৭:২৩ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

নড়াইলের কালিয়ায় জামায়াত নেতা আলী মিয়ার নেতৃত্বে তাঁর লোকজন গত বুধবার বিকেলে লালন সাধক হারেজ ফকিরকে (৮৪) পিটিয়েছে। এ সময় তাঁর আখড়াবাড়িতে থাকা সংগীত চর্চার অনুষঙ্গ হারমোনিয়াম, তবলা, দোতারা, বাঁশিসহ বিভিন্ন মালপত্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত আলী মিয়া আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম মনি মিয়ার বড় ভাই। এ ঘটনায় হারেজ ফকির বাদী হয়ে কালিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

থানায় অভিযোগ করার পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরেও আলী মিয়ার লোকজন হারেজ ফকিরের প্রতিবেশী ইসমাইল চৌকিদারসহ চারজন নারী-পুরুষকে মারধর করেছে।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, কালিয়ার পুরুলিয়া ইউনিয়নের নওয়াগ্রামের বাসিন্দা হারেজ ফকির গত শনিবার রাত ১০টার দিকে ভক্তদের নিয়ে গানবাজনা করছিলেন। এ সময় স্থানীয় জামায়াত নেতা আলী মিয়া শেখ, মিন্টু শেখসহ ২০-২৫ জনের একটি দল হঠাৎ সাধককে মারধর এবং বাদ্যযন্ত্রসহ মালপত্র ভাঙচুর করে। হামলার সময় তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদসহ প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

নওয়াগ্রামের বাসিন্দা নড়াইল বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সালাউঙ্ঘিন শীতল বলেন, হারেজ ফকির লালন তরিকার সাধু। নওয়াগ্রামে তাঁর আখড়াবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে নিভৃতে লালন সংগীতের চর্চা করে আসছেন। জামায়াত নেতা আলী মিয়ার লোকজন এই সাধককে মারধর ও তার সংগীত চর্চার বাদ্যযন্ত্রগুলো ভেঙে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে নড়াইলের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মলয় কুণ্ডু ও সাধারণ সম্পাদক শরফুল আলম লিটু বলেন, মৌলবাদীরা বার বার সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে এই মৌলবাদীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

সাধক ফকিরের ছেলে মিজান ফকির বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে স্থানীয় সাগরসহ কয়েকজন আমাকে বলে, তোরে যেন আর এলাকায় না দেখি। এরপর আমি ভয়ে খুলনা চলে যাচ্ছি।

অভিযুক্ত আলী মিয়া শেখ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হারেজ ফকির গাঁজা সেবন ও ব্যবসা করে আসছে। সে এলাকার যুব সমাজকে ধ্বংস করছে। তাকে বিভিন্ন সময় নিষেধ করলেও শোনেনি। পুলিশকে জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমি এক সময় জামায়াতের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম, তবে এখন আর সক্রিয় নই।

কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম মনি মিয়া বলেন, এলাকার কিছু লোক আমার কাছে হারেজের ব্যাপারে নালিশ করতে এসেছিল, আমি হারেজকে নিষেধ করেছি এসব সেবন না করতে। হারেজের বাড়ি ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র কেউ ভাঙচুর করেনি। ওরা মিথ্যা কথা বলছে। আর আমার ভাই এ ঘটনায় জড়িত নয়।

এ ব্যাপারে সাধক হারেজ ফকির বলেন, ঘটনার দিন রাতে আলী মিয়ার নেতৃত্বে একদল মানুষ হারমোনিয়াম, তবলাসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র ও ঘরের মালপত্র ভেঙে ফেলেছে। আমি এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।

গাঁজা সেবনসহ কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে এখানে সাধনা করছি। এতদিন প্রশ্ন ওঠেনি। এখন এ প্রশ্ন উঠছে কেন? তারা সংগীত সাধনা করতে দেবে না, তাই এ ধরনের কথা বলছে।

কালিয়া থানার ওসি শেখ তাসমীম আলম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ গেছে। ইসমাইল চৌকিদারকে মারধরের বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টির তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, নিউজ টিপিবি এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়