হাজারও মানুষের কষ্ট ঘুচলো এক সাঁকোতেই

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২, ০৫:৪৯ বিকাল
আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ০২:১৪ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাওয়ালজানি গ্রাম ও ছোটভাকলা এলাকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র উপায় ছিল নৌকা। এই দুই এলাকার বাসিন্দারা খেয়া নৌকায় খাল পার হয়ে গন্তব্যে যেতেন। চৈত্রে খালের পানি শুকিয়ে গেলে নৌকাও চলতো না। তখন হাঁটুপানিতে নেমে পার হতে হতো। তবে এখন আর তাদের কষ্ট করে খার পার হতে হবে না। এই খালের ওপর নির্মিত হয়েছে বাঁশের সাঁকো। আর এতেই দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হয়েছে হাজারও মানুষের।

সরেজমিন দেখা যায়, মরা পদ্মার পূর্ব পাশে দেবগ্রাম ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের ছোট কাওয়ালজানি গ্রাম। পশ্চিম পাশে ছোটভাকলা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম। এই দুই ওয়ার্ডের সংযোগ সড়কে খালের ওপর পাঁচ ফুট প্রস্থ এবং ১৮০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। কাওয়ালজানি গ্রামের অবস্থান পদ্মা নদীর পাড়ে। এ কারণে গ্রামটির চারপাশে পানি। বাজার করাসহ স্কুল-কলেজে যেতে এখন সাঁকোই একমাত্র ভরসা।

ওই এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধ হাতেম আলী বলেন, ‘এখানে যারা আছে সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই অনেক কষ্টে বসবাস করছে। কাওয়ালজানি গ্রামে প্রায় দশ হাজার মানুষের বসবাস। তারা এই বাঁশের সেতুই ব্যবহার করে। তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও কমেছে তবে একটা সেতু হলেই স্থায়ী সমাধান হয়। এই গ্রামের লোকজন জেলা শহর এবং উপজেলা শহরে যাতায়াত করে থাকেন এখান দিয়েই। প্রতিদিন অন্তত এক হাজার লোক এই খাল পার হয়। খাল পার হয়েই উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত করে শিক্ষার্থীরা।’

কাওয়াজানি গ্রামের বাসিন্দা সেকেন্দার আলী বলেন, ‘নৌকা ছাড়া কখনও এই নদী পার হতে পারবো ভাবিনি। স্রোতের কারণে কেউ কখনও সেতুর কথা চিন্তাই করতে পারেনি। এটাকে দেখে মনে হতো বিচ্ছিন্ন কোনও দ্বীপ। বর্ষায় নদী শুকিয়ে গেলে অল্প পানিতে নৌকা চলতো না।’

কাওয়ালজানি গ্রামের অধিবাসী এবং দেবগ্রাম চার নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মালেক মন্ডল বলেন, ‘আমাদের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা মুন্সী এবং দেবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম সহযোগিতা করেছেন এবং আমরা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে এই বাঁশের সেতুটি নির্মাণ করেছি। সেতুটি নির্মাণের ফলে মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে। এছাড়া বিশেষ করে নারীদের চলাচল অনেকটা নির্বিঘ্ন হয়েছে। বর্ষায় পানি কমলে তারা না ভিজে চলাচল করতে পারতো না কারণ তখন নৌকা বন্ধ থাকতো। এছাড়া খাল পার হতে প্রতিবছর জনপ্রতি এক হাজার টাকা দিতে হতো। এখন আর সেটা দিতে হবে না।’

জ্বরে আক্রান্ত শিশুসন্তানকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছিলেন হামিদা বেগম। তিনি বলেন, ‘সেতু হওয়ায় আমরা অনেক খুশি। আগে ইচ্ছে করলেই আমরা বাইরে যেতে পারতাম নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হতো। তাছাড়া যখন পানি কমে আসতো তখন নৌকা চলতে পারতো না। আমাদের পারাপারে মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো। তবে একটা পাতা সেতু হলে সবার জন্য আরও ভালো হতো।’

দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান মিলে এই সাঁকোটি নির্মাণ করে দিয়েছি। তবে এখানেই শেষ নয়, আমি চেষ্টা করবো আগামীতে এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো।’

গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা মুন্সী বলেন, ‘জনগণের কষ্ট ও ভোগান্তির কথা চিন্তা করে আপাতত একটি সাঁকো সেতু নির্মাণ করে দিয়েছি। ভবিষ্যতে এখানে নদী শাসন করা পাতা সেতুর ব্যবস্থা করা হবে। আমি সব সময় তাদের সেবা করতে চাই।’

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, নিউজ টিপিবি এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়