শিরোনাম

টানা ৯ দিনের ছুটিতে সৈকতে উপচে পড়া ভিড়

প্রকাশিত: অক্টোবর ০৫, ২০২২, ০২:২০ রাত
আপডেট: অক্টোবর ০৫, ২০২২, ০২:২১ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

কক্সবাজার প্রতিনিধি ||

টানা ৯ দিনের ছুটিতে সৈকতের শহর কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছেন লক্ষাধিক পর্যটক। এদিকে লঘুচাপের কারণে সমুদ্র কিছুটা উত্তাল রয়েছে। আর তাই পর্যটকদের নিরাপত্তায় লাইফগার্ড, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও বিচ কর্মীরা সচেতনতামূলক মাইকিং করছেন। 

রোববার (২ অক্টোবর) সকাল থেকে সমুদ্র সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা, সীগাল, লাবণী, শৈবাল ও কবিতাচত্বর পয়েন্টে পর্যটকের উডচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।


এদিকে কক্সবাজারে আশানুরূপ পর্যটকের দেখা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার।

আবুল কাসেম বলেন, ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারে যেদিন পর্যটন মেলা শুরু হয় সেদিন হোটেল কক্ষের উপর বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছিল। আজ শেষ দিন তাই আজকেই হোটেল কক্ষ ভাড়া নিতে পর্যটকরা ভিড় করছেন। এখন পর্যন্ত কক্সবাজারের এক লাখের উপর পর্যটক এসেছেন। ইতোমধ্যে ৫ শতাধিক হোটেলের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ রুম বুকিং হয়ে গেছে। আজকের পর থেকে এ সংখ্যা আরো বাড়তে শুরু করবে বলে আমি আশা করছি।’

পটুয়াখালীর কলাপড়ার আলীপুর থেকে আসা সাজেদ-ইভানা দম্পতি সীগাল পয়েন্টের হাতে হাত রেখে বালিয়াড়িতে হাঁটছিলেন। তারা বলেন, 'প্রতিবছর নভেম্বর-ডিসেম্বরে কক্সবাজার আসলেও এবার টানা ছুটি পাওয়ায় অক্টোবরেই ছুটে এসেছি কক্সবাজার। নভেম্বর-ডিসেম্বরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আসবেন। আমরা কক্সবাজার পৌঁছে সমুদ্র তীরে এসেছি। সমুদ্রের ঢেউ দেখতে আমাদের খুব ভালো লাগে। তবে এবারের ঢেউ দেখে কিছুটা ভয় লাগছে। মাইকিং করতে শুনেছি সমুদ্রে নাকি সতর্ক সংকেত। তাই পানিতে নামছি না।’

মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা সরকারি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘টানা ৯দিন ছুটি থাকায় বাচ্চারা বায়না ধরেছে কক্সবাজার আসার জন্য। এর আগেও অনেকবার কক্সবাজার এসেছি পরিবার নিয়ে। তারপরও কক্সবাজারের সৌন্দর্যের সাধ মেটে না সন্তানদের। বালিতে খেলাঘর বানিয়ে খেলাধুলা করে অনেক আনন্দ উৎফুল্লে থাকে ওরা।


কুমিল্লার কান্দিরপাড়ের নব দম্পতি রিয়াদ-সুমা কক্সবাজারে এসেছেন ছুটি উপভোগ করতে। জেটস্কিতে চড়ে সমুদ্র উপভোগ করতে দেখা যায় তাদের। কথা হলে রিয়াদ বলেন, ‘আবার কবে আসতে পারবো তা জানি না। কিন্তু পরিকল্পনা করে এসেছি বউকে জেটস্কিতে চড়াবো। তাই সমুদ্র উত্তাল থাকলেও বউয়ের আশাটা পূরণ করলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে পানি থেকে উঠে যাবো।’

সী সেইফ লাইফ গার্ডের ফিল্ড টিম ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, 'পূজা এবং ঈদে মিল্লাদুনবীর ছুটিতে প্রচুর পর্যটক কক্সবাজারে ভিড় করছেন। অনেকে সমুদ্রস্নান করছেন। কিন্তু সাগর উত্তাল হওয়ার কারণে আমরা পর্যটকদের পানির গভীরে যেতে মানা করছি। সৈকতেন সুগন্ধা লাবণী এবং কলাতলী পয়েন্টে সতর্কতামূলক লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে। আমাদের বিচ কর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশ পর্যটকদের সহযোগিতা করছেন।’

বিচ কর্মী মাহবুবুল আলম বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য আমরা সবসময় মাইকিং করে যাচ্ছি। অনেক পর্যটক মানেন আবার অনেকেই নির্দেশনা না মেনে গভীর পানিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাদেরকে পানি থেকে উঠে আসার জন্য অনুরোধ করি আমরা। এভাবে নিয়মিত পর্যটকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।'

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে কক্সবাজারে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বৃষ্টি এবং বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। 


কক্সবাজার ট্যুরিস্ট জোনের সহকারী পুলিশ সুপার চৌধুরী মিজানুজ্জামান বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সার্বক্ষণিক সজাগ রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সাগরের অবস্থা ও পরিস্থিতি নিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের জনসচেতনতামলূক মাইকিং অব্যাহত আছে। সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে বিভিন্ন টিমে ভাগ হয়ে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে আমাদের সদস্যরা। সৈকতে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। কোনো পর্যটককে হয়রানির চেষ্টা করলে আমরা দুষ্কৃতিকারীকে সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনবো।’  

তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটন খাতের উন্নয়নে ট্যুরিস্ট পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, নিউজ টিপিবি এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়